এক ছিল মেয়ে। নাম মায়া। মায়ার মা এই গ্রহে নেই। বাবা আবার বিয়ে করলেন। সৎ মা। তিনি মায়াকে যথেষ্ট আদর করেন। নিজে না খেয়ে খাওয়ান এই অনাথাকে। অভাবের সংসার। মায়ার বাবা সুরুজ মিয়া কাঠুরিয়া। তিনি বনে কাঠ কাটেন।
এক বর্ষনমুখর দিন। ঝুম বৃষ্টি। একাধারে বৃষ্টি হতেই থাকলো। সারাদিন,সারারাত। এভাবে তিনদিন চলে এই মুষলধার জলধারা। মায়ার বাবা ঘরে। তিনি বনে যেতে পারছেন না। তাদের ঘরের মজুদ খাবার অল্প। মাত্র দুদিন চলবে।
সুরুজ মিয়া রাহেলাকে বললেন,"বউ, খাবার কদিন চলতে পারে?"
চোখ মুছতে মুছতে রাহেলা বলে,"দু দিন!"
বলতে বলতে গলা ধরে এলো তার।
"বৃষ্টি কালই শেষ হয়ে যাবে। চিন্তা করো না"
কিন্তু বৃষ্টি থামলো না।
বৃষ্টির ৩য় দিন। মায়া ও তার বাবা খাবার খাচ্ছেন। হাসিমুখে খাবার উপস্থাপন করছেন রাহেলা!
আর খাবার নেই। রাহেলা খেলেন না। নিজে না খেয়ে পরিবারের খাবার খাওয়ার দৃশ্য দেখে তার ভালো লাগছে।
বৃষ্টি থামলো পরের দিন। সুরুজ মিয়া বনে গেলেন। কাঠ কাটছেন। বনে স্যাঁতসেঁতে পানি। কিন্তু কাঠ কাটতে তার ভালোই লাগছে। তাদের সংসার ভালোই চলছে।
কিছুদিন পর। রাহেলার ঘরে এক ফুটফুটে ছেলেশিশু জন্ম নেয়।
মায়া বড় হয়েছে। সে এখন স্কুলে পড়ে। বাবার আয় অতি অল্প। সংসার চলে না। সুরুজ মিয়া গ্রাম ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
একটা কাজের সন্ধানে ঘুরছেন। ঢাকা।
ঢাকা এক নিষ্ঠুর শহর। কেউ সহজে কাউকে সহযোগিতার হাত বাড়ায় না। অনেক ঘুরে একটি কাজ পান শহরে। সুরুজ মিয়া টাকা পাঠান। সংসারে গতি আসে।
রাহেলা সেই টাকা দিয়ে তার ছেলেটির জন্য অনেক কিছু কিনে। মায়ার দিকে সে তাকায় না। কাজ-ফরমায়েশ ছাড়া আর কোন প্রয়োজনই যেন নেই মায়ার।
পেট পুরে খেতেও দেয়না মায়াকে। রাহেলা পালটে যায়।
মায়াকে স্কুলে আর যেতে দেয়না সে।
সুরুজ মিয়া ফোন দেন। মায়ার কথা জিজ্ঞেস করলে,
"মায়াকে আমার ছেলের থেকেও দেখেশুনে রাখি। সে তো খুশিই থাকে।"
বলে রাহেলা।
"হ্যাঁ আমি জানি। তুমি তাকে মায়ের অভাব বুঝতে দাওনি।" সুরুজ মিয়া হেসে বলে।
"মা,বাবা কেমন আছে?" মায়ার এমন জিজ্ঞাসায় রাহেলা বলে,
"তোমার বাবা ভাল নেই। শহরে কাজ নেই।একবেলা খাবার পেলে আরেকবার পায় না।"
মায়া বিশ্বাস করে। ধীরে ধীরে মায়ার প্রতি অত্যাচারের মাত্রা বাড়তে থাকে।
একদিন রাহেলার মাথায় একটা শয়তানী বুদ্ধি খেলে যায়।
খুন করে ফেলতে হবে এই আপদটাকে। ভাবে সে। কারণ, তার বাবার সঞ্চয়ের আধভাগ দিতে হবে মায়াকে।
0 Comments