অনেক দিন আগের কথা। এক ছিল কুকুর,আরেক ছিলো গাধা। দুজনের মধ্যে ছিল খুব ভাল বন্ধুত্ব। ছিল গলায় গলায় ভাব। এক বন্ধু ডানে গেলে, অন্য বন্ধুও ডানে যায়। দিন যায়, রাত যায়, তাদের বন্ধুত্ব ফুরায় না। 
দুজন দুজনকে খুব ভাল বাসতো। এভাবেই তাদের দিন অতিবাহিত হচ্ছিল। 
একসময় দুজনেই একটি বড় আমগাছের নিকটে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলো। হঠাৎ কুকুর বললো, বন্ধু চল কোথাও ঘুরে আসি। গাধার ও একই কথা। সে বললো,বেশ বন্ধু,তাই হবে। আমরা দক্ষিনের জঙ্গলে বেড়াতে যাবো। কুকুর বললো,ঠিক আছে। কাল সকাল সকাল বের হব। এই কথা বলে দুজনেই যার যার বাড়ি চলে গেলো। রাতে খাবার খেয়ে দুজনেই গেলো। রাত যেন ফুরাতে চায় না। দুজনেই ভাবতে থাকে কখন দুই বন্ধু মিলে বেড়াতে বের হবো। 
রাত পোহানোর সাথে সাথে দুই বন্ধু মিলে বেড়িয়ে পড়লো। বেড়ানোর আশায়। কিছু দূর যাওয়ার পর গাধাটি বললো, তোমার সাথে বেড়াতে আসতে পেরে আমার কী যে আনন্দ হচ্ছে সেটা তোমাকে বলে বুঝাতে পারবো না। কুকুর কিছু না বলে মুচকি হেসে পথে হাঁটতে শুরু করল। অনেকদূর যাওয়ার পর তারা সেই বনে পৌঁছালো। বোনের সবাই তাদের অচেনা। শুধু একটা কাঠবিড়ালি তাদের পরিচিত ছিল। অনেক দূর যাওয়ার পর তারা খুবই ক্লান্ত হয়ে গেল। গাধা কিন্তু চাইলে রাস্তার পাশের ঘাস চিরলতা খেয়ে নিতে পারতো। বন্ধুর সাথে খাবে বলেই তার আশা।  তারপর তাদের বন্ধু কাঠবিড়ালি সেখানে উপস্থিত। সেই তাদের সাদরে গ্রহণ করল। কুকুর কাঠবিড়ালির বাড়িতে গিয়ে হাড্ডি মাংস না পেয়ে চলে আসতে লাগলো। এবং আসার সময় কাঠবিড়ালি লিখে অপমান করলো। কাঠবিড়ালি কিছু না বলে অবাক চোখে তাকিয়ে রইল। গাধা কুকুরকে নিয়ে সেখান থেকে চলে এলো। কিছুদূর যাওয়ার পর তারা দুজন একটি কাগজ দেখতে পেল। কুকুর গাধাকে বললো, বন্ধু ওই যে দেখো একটা কাগজ পড়ে আছে। 
এটা দেখতো কী পড়ে?
কথাটি পরে দেখে সেখানে আছে তৃণলতা ঘাস ভুষি ইত্যাদি। কুকুরটি বলল, কি! স্বার্থপর এসব তো তোর খাবার। তোর মত বন্ধুরা আমার কোন দরকার নেই। চলে যা স্বার্থপর গাধা। আমি বরং গিয়ে বড়লোক একটা বন্ধু বানাই। তোর মতো বন্ধুর কোন দরকার নেই। এই বলে কুকুর, সেখান থেকে চলে গেলো। 
গাধা কুকুরের দিকে শুধু তাকিয়ে থাকলো। সে ভাবলো, ভালো থেকো বন্ধু!